Sunday, January 11, 2026

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, রাশিয়া-চীনের তৎপরতা নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা


ছবিঃ গ্রিনল্যান্ডের নুক শহরে ১১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে অষ্টাদশ শতকের মিশনারি হ্যান্স এগেদের একটি ভাস্কর্যের কাছে উড়তে থাকা ডেনিশ পতাকার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মার্কো জুরিকা/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নীতিগত বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।

এর কয়েক দিন আগে, ৪ জানুয়ারি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশের জলসীমায় রুশ ও চীনা জাহাজের উপস্থিতি বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।”

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিভিন্ন পথ খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনার বাইরে নয়। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলেছেন।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধিভুক্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৭৯ সাল থেকে তারা স্বশাসন ভোগ করছে এবং ২০০৯ সাল থেকে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকারও রয়েছে। দ্বীপটিতে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—উভয় পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।” তিনি আরও বলেন, ডেনিশ রাজ্যের কোনো অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে—প্রতীকী হুমকি বা চাপ দিয়ে নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক নৌপথ নজরদারিতে দ্বীপটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে বিরল খনিজসম্পদের বড় ভাণ্ডার, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যাটারি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রুশ বা চীনা জাহাজের অস্বাভাবিক উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় নতুন নৌপথ ও সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও কানাডাসহ একাধিক দেশ সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের আগ্রহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন