- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্ক এক ‘নির্ণায়ক মুহূর্তের’ মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের শক্তি প্রয়োগ করে আর্কটিক অঞ্চলের এই স্বশাসিত ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেওয়ায় ইউরোপজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈশ্বিক কাঁচামাল ও কৌশলগত সম্পদ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আগে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এখন স্পষ্টভাবেই একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। ডেনমার্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, এই সংকট শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেনমার্ক তার মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে আর্কটিক অঞ্চলও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারেই ডেনমার্ক বিশ্বাস করে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে জার্মানি ও সুইডেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকিমূলক ভাষা’র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং এটি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে হাঁটার উৎসাহ দিতে পারে। একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি জানান, নর্ডিক দেশগুলো, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এবং ইউরোপের একাধিক বড় দেশ ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
জার্মানিও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল আইসল্যান্ডে আলোচনা করে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর জন্য আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য ন্যাটো মিশনের বিষয়ে ইউরোপীয় সামরিক নেতারা প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এসব পরিকল্পনায় সেনা, নৌযান ও বিমান মোতায়েনের বিষয়ও থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যের এক মন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, আর্কটিকে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা স্বাভাবিক কূটনৈতিক কার্যক্রমেরই অংশ।
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেনও আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর একটি সমন্বিত অভিযান শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, যৌথ শক্তি ও ঐক্য প্রদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করা জরুরি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে একসময় ডেনমার্কের উপনিবেশ থাকা গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে স্বশাসিত এবং ভবিষ্যতে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের বিরোধিতা করছে।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই টানাপোড়েন এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।