Monday, January 19, 2026

ঘূর্ণিঝড় ‘বায়রন’-এ গাজায় প্রাণহানি অন্তত ১৪, চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুত মানুষ


ছবিঃ ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, বৃষ্টির দিনে মধ্য গাজার নুসাইরাত এলাকায় প্লাবিত একটি তাঁবু শিবিরে জমে থাকা কাদামাটির পানি সরিয়ে নিচ্ছেন এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ব্যক্তি। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাহমুদ ইসা/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ঘূর্ণিঝড় ‘বায়রন’-এর তাণ্ডবে গাজা উপত্যকায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, টানা বৃষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ধসে পড়ায় প্রাণ হারাচ্ছেন এমন মানুষ, যারা আগেই ইসরায়েলের দীর্ঘ হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজার স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে উত্তর গাজার বির আন-নাজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দেওয়া একটি বাড়ি ঝড়ের সময় ধসে পড়ে পাঁচজন নিহত হন। ভোরে গাজা সিটির রেমাল এলাকায় একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে অস্থায়ী তাঁবুর ওপর, এতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগের দিন শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি ভবন ধসে একজন মারা যান। এছাড়া আল-মাওয়াসি এলাকায় তীব্র শীতের কারণে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলোতে শীত ও আবহাওয়াজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নয় বছর বয়সী হাদিল আল-মাসরির মৃত্যু হয়েছে। শাতি শিবিরে মারা গেছে শিশু তাইম আল-খাওয়াজা। খান ইউনিসে বৃষ্টির পানিতে ডুবে আট মাস বয়সী রাহাফ আবু জাজার প্রাণ হারায়।

নিহত শিশুটির স্বজনরা জানান, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিজেদের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর পরিবারটি ছাদবিহীন একটি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে তাঁবু ও আশ্রয় ভেঙে পড়লে শিশুটি মারাত্মক ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়।

দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, ঝড়ের কারণে অস্থায়ী আশ্রয়গুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ৭৬১টি আশ্রয়স্থলে অবস্থান করছে।

উপকূলীয় এলাকার অনেক অংশ ভেঙে পড়ায় সমুদ্রের কাছাকাছি থাকা তাঁবুগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একের পর এক স্থানান্তরের শিকার পরিবারগুলো এখন নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০টি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং আরও ভবন যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। শীতকালীন সরঞ্জাম, ত্রিপল ও তাঁবু প্রবেশে বাধা থাকায় বহু মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভেতরেই থাকছেন। তাঁর ভাষায়, “গাজার অধিকাংশ মানুষ কার্যত গৃহহীন।”

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল জানিয়েছে, বির আন-নাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড় শুরুর পর থেকে জরুরি সেবায় ৪ হাজার ৩০০টির বেশি ফোনকল এসেছে এবং আগে বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১২টি ভবন ধসে পড়েছে।

প্রায় কোনো ভারী যন্ত্রপাতি বা জ্বালানি না থাকা সত্ত্বেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক মহলকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ঝড়জনিত এই মৃত্যুগুলো আসলে যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের নগ্ন চিত্র। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আশ্রয় ও সুরক্ষা না থাকায় শিশুরা তাঁবুতে ডুবে মারা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জোরালো করে তুলেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন