- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি প্রতিদিন লঙ্ঘনের মাধ্যমে ইসরায়েল পুরো শান্তি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি না হলে পুরো সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কঠিন অবস্থায় পড়বে।
বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা কোনো শর্ত ছাড়াই প্রবেশ করতে দিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র–কাতার সপ্তম কৌশলগত সংলাপের এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিকবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৭৩৮ বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৩৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে চাপ বৃদ্ধি, গাজায় সম্ভাব্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করা। প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সেনা থাকার কথা থাকলেও তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যখন গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তার প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস এ ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তাও দিয়েছে।
এদিকে শীতকালীন ঝড় গাজাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ বা অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসরত লাখো মানুষ প্রচণ্ড ঠান্ডা, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলের বাধার কারণে মোবাইল হোম, তাঁবু ও শীতবস্ত্রসহ জরুরি সরঞ্জাম ঢুকতে পারছে না।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় তীব্র শীতজনিত কারণে ২৯ দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৩ জনে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার শিশু ঝড়ের কারণে তাদের আশ্রয় হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামাসের গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেছেন, ইসরায়েলের ধারাবাহিক লঙ্ঘন চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতি মানতে বাধ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করায় ইসরায়েল ওই হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও এসব বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে অগ্রগতি থমকে আছে।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে গাজায় স্থায়ী শান্তির পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।