Wednesday, October 14, 2026

এআই নিয়ে নেতিবাচক প্রচার কমিয়ে সম্ভাবনায় জোর দেওয়ার আহ্বান অ্যান্ড্রু ফেল্ডম্যানের


ছবিঃ অ্যান্ড্রু ফেল্ডম্যান, সেরিব্রাস সিস্টেমস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এর ইতিবাচক দিকগুলোও মানুষের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেরিব্রাস সিস্টেমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ফেল্ডম্যান। তাঁর মতে, এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রচার প্রযুক্তি খাতের জন্য সুফল বয়ে আনছে না। বরং দায়িত্বশীল ব্যবহার, যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের কল্যাণে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা প্রয়োজন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্ট ২০২৬ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফেল্ডম্যান। এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসিকতা করে বলেন, এআই জগতের কিছু নেতাকে হয়তো জনসমক্ষে কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

বর্তমানে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে নানা ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। কোনো কোনো আলোচনায় উঠে আসছে, উন্নত এআই মডেল মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে কি না। এসব আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও বিতর্ক চলছে।

তবে ফেল্ডম্যানের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এর মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বলা দরকার। উদাহরণ হিসেবে তিনি এমন একটি ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে এআইয়ের সহায়তায় ক্যানসারের মতো রোগের চিকিৎসায় এতটাই অগ্রগতি হতে পারে যে পরবর্তী প্রজন্মকে হয়তো এ রোগে মানুষের মৃত্যু দেখতে হবে না।

অবশ্য এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর আশাবাদকে একমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সেরিব্রাস নিজেই এআই প্রযুক্তির জন্য উন্নত চিপ তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ওপেনএআই, ব্লক, ফিগমা, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিএসকে এবং লাভেবল। ফলে এআই খাতের অগ্রগতির সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থও জড়িত।

তারপরও ফেল্ডম্যান স্বীকার করেন, শক্তিশালী প্রযুক্তির সঙ্গে ঝুঁকিও থাকে। তাঁর ভাষায়, কোনো শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরি হলে সেটি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার ঠেকাতে সতর্ক থাকা এবং যৌক্তিক বিধিনিয়ম প্রণয়ন করা জরুরি।

এআই নিয়ে মানুষের অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের পদ্ধতির সমালোচনা করেন তিনি। ফেল্ডম্যানের মতে, গত কয়েক বছরে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ রাখেনি। নতুন স্থাপনা নির্মাণের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাঁদের উদ্বেগ বোঝার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তিনি মনে করেন, স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে অনেক এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের এলাকায় এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্রাজিল, কানাডা, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, মেক্সিকো ও সুইডেনের মতো দেশগুলোতে ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য তুলনামূলকভাবে উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এআই মডেলের দক্ষতা বাড়লে কম্পিউটিং চিপের চাহিদা কমে যাবে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছেন সেরিব্রাসের প্রধান নির্বাহী। তাঁর মতে, হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের কাজ হলো কম শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করে আরও বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এআই মডেল নির্মাতাদেরও কম সম্পদ ব্যবহার করে একই কাজ সম্পন্ন করার মতো প্রযুক্তি উন্নত করতে হবে।

ফেল্ডম্যানের বক্তব্য, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের দক্ষতা একসঙ্গে বাড়লেই এআই প্রযুক্তিতে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ঝুঁকি অস্বীকার করে নয়, বরং সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের আস্থা অর্জনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন