- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিরসনের লক্ষ্যে রিয়াদে একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষকে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় এই ফোরামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সংকটের ন্যায্য ও টেকসই সমাধানে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতেই এই সংলাপ জরুরি।
এর আগে পিএলসি চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী নেতাদের উদ্দেশে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষিণ ইয়েমেনের দাবি ও বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো একতরফা বা বর্জনমূলক সমাধান টেকসই হবে না।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনে উত্তেজনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই দুটি প্রদেশ ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত এবং তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিষয়টি রিয়াদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এসটিসি হুথিবিরোধী জোটের অংশ হলেও তারা দক্ষিণ ইয়েমেনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার ও এসটিসির মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, তাদের জোটসঙ্গী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসিকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যা ইয়েমেনকে একাধিক অংশে বিভক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে। তবে ইউএই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
শনিবার ইউএই এক বিবৃতিতে চলমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ইয়েমেনের সব পক্ষকে সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানায়।
এরই মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে এসটিসি। একই দিনে ইউএই ঘোষণা দেয়, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের সব সামরিক সদস্য ফিরিয়ে নিচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের শেষ ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় এই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে ইউএই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর এসটিসি একতরফাভাবে জানায়, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে উত্তর ইয়েমেন থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তবে সাবেক ইয়েমেনি কূটনীতিক আলি আহমেদ আল-আমরানি এই উদ্যোগকে জাতীয় ঐকমত্যবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ইয়েমেনের বর্তমান সহিংসতা সমাধান না হলে এটি যুদ্ধের আরও বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। ইউরোপীয় ইনস্টিটিউট অব পিসের বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত কেবল ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।