- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
একসময় বিয়ের আসরে গান গেয়ে, শিশুদের বিনোদন দিয়ে দিন কাটত আবদুল্লাহ নাত্তাতের। উৎসবের মৌসুম মানেই ছিল তাঁর ব্যস্ত সময়। কিন্তু আজ ৩০ বছর বয়সী এই শিল্পীর জীবন সীমাবদ্ধ একটি হুইলচেয়ারে দুই পা-ই নেই।
গত সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর গাজায় ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরুর পর বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গাজা শহরের একটি এলাকায় আশ্রয় নেন আবদুল্লাহ। একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে আচমকা বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে।
আবদুল্লাহ বলেন, “হঠাৎ বিস্ফোরণের পর আর কিছু মনে নেই। যখন চোখ খুলে দেখি, চারদিকে ধোঁয়া আর রক্ত। দাঁড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। তখনই বুঝলাম, আমার জীবন চিরতরে বদলে গেছে।”
এই দুঃসহ বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন তাঁর চাচাতো ভাই দিয়্যা আবু নাহলও। বয়স তাঁরও ৩০। একসময় দুজন একসঙ্গে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে তাঁদের পরিবারের বাড়িতে সরাসরি হামলায় দিয়্যার স্ত্রী ও দুই কন্যা নিহত হন। সেই হামলায় দিয়্যার একটি পা কেটে ফেলতে হয়, অন্য পাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
দিয়্যার কণ্ঠে এখনো সেই রাতের বিভীষিকা, “ঘুমের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন শুধু চিৎকার আর ধ্বংস। আমার পা ছিল ছিন্নভিন্ন, কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি আমি আমার স্ত্রী আর সন্তানদের হারিয়েছি।”
আজ তারা দুজনই উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ান এলাকায় একসঙ্গে থাকেন। একই যন্ত্রণা, একই শূন্যতা তাদের আরও কাছাকাছি এনেছে। আবদুল্লাহ বলেন, “গাজায় অন্যের কষ্ট দেখলে নিজের ব্যথা কিছুটা হালকা লাগে।”
যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও গাজায় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সংকট প্রকট। কৃত্রিম পা, দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি কিছুই সহজলভ্য নয়। শীত, দুর্বলতা আর নির্ভরশীল জীবন প্রতিদিন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার মানুষের অঙ্গচ্ছেদ হয়েছে। এর একটি বড় অংশ শিশু ও নারী। প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কর্মসূচি ও আধুনিক প্রস্থেটিকসের অভাবে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
তবুও আবদুল্লাহ ও দিয়্যার স্বপ্ন একটাই আবার দাঁড়ানো। আবদুল্লাহ বলেন, “প্রতিদিন ঘুমানোর আগে কল্পনা করি, আমার পা আছে। সকালে উঠে আবার হাঁটব।”
যুদ্ধ তাদের শরীর ভেঙে দিয়েছে, পরিবার কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু আশা এখনো বেঁচে আছে। তারা চান, একদিন দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে আবার নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে নতুন করে জীবন শুরু করতে।
তথ্যসুত্রঃ আল জাজিরা