- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিষয়ে বিলম্ব না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
তেহরানের একটি কারাগার পরিদর্শনকালে মোহসেনি-এজেই জানান, বিচার প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আয়োজন করা উচিত এবং এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ সময়ক্ষেপণ করবে না। তিনি দাবি করেন, সহিংস অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আটক হয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে দুই হাজার পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। নিহতদের মধ্যে শিশু ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছে। পাশাপাশি ১৮ হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে তেহরানে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে। টানা কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। অন্যদিকে চীন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তুরস্কও কূটনৈতিক পথে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপমূলক নীতির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরানি জনগণ নিজের দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার ও কঠোর দমননীতির ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই ইরান এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।