Monday, January 19, 2026

আলেপ্পোতে সংঘর্ষ: সিরীয় সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সমঝোতা অনিশ্চিত


ছবিঃ সিরীয় সরকারের সঙ্গে করা একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সিরিয়ার আলেপ্পো শহর ত্যাগ করার সময় সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সদস্যরা বিজয়ের চিহ্ন প্রদর্শন করেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আহমাদ ফাল্লাহা/ ইএফই/ ইপিএ]

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে সিরীয় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ হঠাৎ করে ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শেষ নাগাদ এসডিএফকে সিরীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনই এই উত্তেজনার মূল কারণ।

সোমবার বিকেলে আলেপ্পোতে সংঘর্ষ শুরু হয়, যে সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শহরটি সফর করছিলেন। তবে সন্ধ্যার মধ্যেই দুই পক্ষ গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আল জাজিরাকে দেওয়া বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসডিএফের প্রধান মাজলুম আবদি (মাজলুম কোবানি নামেও পরিচিত) এবং দামেস্কের নতুন সরকারের মধ্যে কুর্দি যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সামরিক কাঠামোয় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এ বিষয়ে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সিরিয়া–বিশেষজ্ঞ থমাস ম্যাকগি বলেন, কুর্দি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের ‘লাল দাগ’ এবং তুরস্ক ও দামেস্কের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক বিরোধ রয়েছে, যা সহজে সমাধানযোগ্য নয়।

চলতি বছরের ১০ মার্চ সিরিয়ার নতুন সরকার ও এসডিএফের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। এতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসডিএফকে নতুন সিরীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই চুক্তিকে সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষ এড়ানোর উপায় হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে প্রায় ১০ মাস পার হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত।

বিরোধের মূল জায়গা হলো এসডিএফ চায় তাদের বিদ্যমান ইউনিটগুলো কিছুটা স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে সেনাবাহিনীতে যুক্ত হোক, আর দামেস্ক চায় যোদ্ধারা আলাদাভাবে, ব্যক্তিগতভাবে বাহিনীতে যোগ দিক। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই অবস্থান আপাতত সমঝোতার পথে বড় বাধা।

এদিকে তুরস্ক প্রকাশ্যে দামেস্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সমঝোতা না হলে একতরফা সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে চলমান নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এ আশঙ্কায় তুরস্ক সরাসরি বড় সামরিক অভিযানে যেতে চাইবে না।

অন্যদিকে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন গড়ে তুলেছিল এসডিএফ। দীর্ঘদিন ধরে দমন–নিপীড়নের শিকার কুর্দিদের কাছে এই অর্জন ঐতিহাসিক। ফলে তারা সহজে সেই ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানী অভিযোগ করেছেন, এসডিএফ কেন্দ্রীয় প্রশাসনে একীভূত হওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দামেস্কও আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি যেমন কুর্দি সংস্কৃতির স্বীকৃতি বা নাগরিক সেবা পুনর্বহাল।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সিরীয় সরকার সমর্থন পেলেও এসডিএফ ইস্যুতে সমাধান এখনো দূরে। যুক্তরাষ্ট্রও এসডিএফকে সিরীয় রাষ্ট্রের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত দেখতে চায়, তবে সংঘর্ষে জড়ানো নয় কারণ এতে আবারও আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর মাথাচাড়া দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্চের চুক্তি এখনো বড় ধরনের সংঘর্ষ ঠেকাতে ভূমিকা রাখছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসডিএফের পূর্ণ একীভূত হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন তারা। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন