Thursday, October 8, 2026

তেলবাহী জাহাজে হামলা, পারস্য উপসাগরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ


ছবিঃ ইউকেএমটিও (UKMTO) হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ফাতেমেহ বাহরামি/আনadolu ভায়া গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক প্রজেক্টাইলের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

ইউকেএমটিওর তথ্যমতে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল শহর থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থানকালে ট্যাংকারটিতে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তবে জাহাজটির কোন দেশের মালিকানাধীন বা এটি কোথা থেকে যাত্রা করেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় এ ধরনের হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। বাণিজ্যিক নৌপরিবহনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিমাংশে কোনো ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম খবর।

ঘটনাটি কাতারের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কাতার সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। এই সরু জলপথ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউকেএমটিও মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার লক্ষ্য করে নয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ওই প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যত হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, চলতি মাসের হামলার সংখ্যা তার অর্ধেকের সমান।

তবে হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক উপাত্ত অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের চলমান গড় দাঁড়ায় দৈনিক ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেলে। যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বাইরে কাতারের উপকূলের কাছেও হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় উপসাগরীয় নৌপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

   

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন