- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
তারল্য সংকটের কারণে সীমিত হয়ে পড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আবারও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে ব্যাংকটির সব শাখায় স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। এখন থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও লেনদেন করতে পারবেন তাঁরা।
এর আগে তারল্য সংকট সামাল দিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের জন্য লিখিত আবেদন নেওয়া শুরু করেছিল ব্যাংকটি। সেই সীমিত ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন এর আগে ১৫ অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সব শাখা ও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের ব্যবস্থা রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
মেলিতা মেহজাবীন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংক আবারও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে গ্রাহকেরা ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারবেন। পাশাপাশি চেক, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস), ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) এবং ব্যাংকটির অন্যান্য প্রচলিত সেবার মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান বলেন, অনিয়ম ও দুর্বল সুশাসনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংক পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। তবে গ্রাহকদের মধ্যে এখনো ব্যাংকটির প্রতি আস্থা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সব সেবা নিয়মিতভাবে চালু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে গ্রাহকেরা আবারও ব্যাংকটিতে আমানত রাখতে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মেলিতা মেহজাবীন।
দেশের প্রথম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, একসময় ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
এদিকে, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ব্যাংকটির শাখা ও এটিএম বুথগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ২২১টি শাখা, ৬৫টি উপশাখা ও ৫৩টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর ফলে আমানত উত্তোলন ও নিয়মিত লেনদেনে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম কতটা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার ওপর।