- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সময়ও ফুরিয়ে আসছিল দ্রুত। এমন পরিস্থিতিতে হার মেনে নেওয়াই যেন স্বাভাবিক ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটির জন্য। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ যে সহজে হার মানে না, তা আরও একবার দেখল ইউরোপীয় ফুটবল। শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে রোমার মাঠ থেকে ৪-৩ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে তারা।
বুধবার রোমার স্তাদিও অলিম্পিকোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় নিশ্চিত করে রিয়াল। হোসে মরিনিয়োর সাবেক দলের বিপক্ষে এই জয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর সেই পরিচিত মানসিকতা।
মরিনিয়োর সঙ্গে রোমার সম্পর্কও ম্যাচটিকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা। ২০২১-২২ মৌসুমে তাঁর অধীনেই উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল ইতালির ক্লাবটি। পরের মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল রোমা। সাবেক কোচের প্রত্যাবর্তন ঘিরে গ্যালারিতে ছিল তাঁকে স্মরণ করে নানা ব্যানার।
ম্যাচের ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্টেন ডে রুন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর জোরালো শট রিয়ালের জালে জড়ালে উচ্ছ্বাসে ভাসে স্বাগতিক সমর্থকেরা।
তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে এটি ছিল এমবাপ্পের ৭২তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে পেছনে ফেলে এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন ফরাসি তারকা।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে রোমা। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলটিকে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমার ব্যবধান বাড়ান মালেন। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
এরপরই শুরু হয় রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষ সাত মিনিটে তিনটি গোল করে ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেয় তারা। ৮৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা কার্লোস ইস্পি গোল করে ব্যবধান কমান। এন্দ্রিকের হেড রোমার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান ইস্পি।
দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল। আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্দ্রিক। মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে রোমা, আর নতুন করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সফরকারীরা।
নাটকের শেষ অঙ্ক রচিত হয় ম্যাচের ৯০ মিনিটে। গুলারের নেওয়া আরেকটি সেট পিস থেকে বল পেয়ে কাছের পোস্টে ভলিতে জয়সূচক গোল করেন আন্তোনিও রুডিগার। তাতেই ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা রিয়াল ৪-৩ গোলে এগিয়ে যায়।
শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়ালের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই জয়ের গুরুত্ব। আর রোমার জন্য এটি ছিল জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে সব হারানোর এক হতাশার রাত। রিয়াল মাদ্রিদ আবারও দেখাল, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে ফল নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।