- ১২ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনের (১৫) সঙ্গে শেষ যোগাযোগ এবং তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর প্রেমিক রাজু। তাঁর দাবি, বাড়ি ফেরার পথে তাজমীন বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। পরে ভিডিও কলে কথা হলেও একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর বন্ধুর কাছ থেকে তাজমীনের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আটক হওয়ার আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন রাজু। তাজমীনের সঙ্গে তাঁর প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাজমীন তাঁকে জানান, বাড়িতে পৌঁছে প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছেন। এ সময় তাঁর বাবার মুঠোফোনও বন্ধ ছিল। তখন রাজু তাঁকে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে অথবা অন্য কারও ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন বলে জানান।
রাজু আরও দাবি করেন, তাজমীন পরে তাঁকে জানান, তিনি এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে বাড়ি ফিরবেন। এরপর ভিডিও কলে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান। এ সময় তিনি তাজমীনকে বকাঝকা করেন এবং অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলেন বলে তাঁর বক্তব্য।
রাজুর দাবি, এরপর তাজমীন ভিডিও কল কেটে দেন এবং নিজের লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন। পরে তাঁকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছেন এবং পরদিন সেখান থেকে বাড়ি ফিরবেন।
রাজু বলেন, পরদিন সকাল ৬টার দিকে আবার ভিডিও কলে তাজমীনের সঙ্গে কথা হয়। তখনও তাঁকে অটোরিকশায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় চালক জানতে চান, তাজমীন কার সঙ্গে কথা বলছেন। উত্তরে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন জানানোর পর তিনি কলটি কেটে দেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান রাজু।
তাজমীনের মৃত্যুর খবর কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে রাজু বলেন, পরদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তাজমীনকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল উল্লেখ করে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি তাঁকে গ্রহণ করেন। পরে তাঁরা কলাতলীর ‘মেঘলা’ রিসোর্টের একটি কক্ষে এক দিন অবস্থান করেন। এ সময় তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বারবার ফোন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাজমীনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছিলেন বলেও দাবি করেন রাজু।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, তাজমীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।