Tuesday, October 20, 2026

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, ফের আলোচনায় লরেন্স বিষ্ণোই চক্র


ফাইল ছবিঃ লরেন্স বিষ্ণোই (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কুখ্যাত অপরাধী লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই বার্তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। লরেন্স বিষ্ণোই সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন প্রমাণও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হামলার তদন্তের পাশাপাশি অপরাধী চক্রটির সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজস্থানের কোটায় অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনসহ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। কোটা পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেহান নামের এক সন্দেহভাজনের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের কথিত সহযোগী অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলার প্রকৃত সম্পর্ক কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতাও এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে গিয়ে ডিএভি কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে।

গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মধ্যেও তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার দাবি, কারাগারে থেকেও বাইরের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রমে প্রভাব রাখতেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমনটি বলা যায় না।

বর্তমানে লরেন্স বিষ্ণোই গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ও কারাগারের বাইরে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের পেছনে রয়েছে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় অভিনেতার বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।

২০১৮ সালে ওই মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তিনি জামিন পান। একই বছর লরেন্স বিষ্ণোই প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়েও সালমানকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে।

বিনোদনজগতে বিষ্ণোই চক্রের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের পর। বিদেশে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রার ওই হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোও হত্যাকাণ্ডে বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে।

এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের পরও বিষ্ণোই চক্রের নাম আলোচনায় আসে। সালমান খানের সঙ্গে বাবা সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় সালমানকে সহায়তা করা ব্যক্তিদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২০২৫ সালে কানাডার সারেতে কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মার ক্যাফেতে গুলির ঘটনাতেও বিষ্ণোই চক্রের নামে দায় স্বীকারের বার্তা সামনে আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির জুহুর বাড়িতে গুলির ঘটনার পরও একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব ঘটনার প্রতিটিতে একই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে হামলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে ভয় তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে শুধু হামলার শিকার ব্যক্তিকে নয়, সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদেরও আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে কারাগার থেকে যোগাযোগ, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধী চক্রের পরিচিতি বাড়ানোর বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনাও তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলার তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে কারা জড়িত, হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া হুমকির বার্তাটি সত্য কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন