- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ১৫টি দল কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া একটি পোস্টের সত্যতা যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে এই হামলার সঙ্গে চক্রটির সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। অভিনেতার শরীরে গুলি না লাগলেও তাঁর গাড়িচালক ফেরদৌস ও ঘটনাস্থলে থাকা উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজনের অবস্থাই শঙ্কামুক্ত।
ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে বসে ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, গাড়ির কাছে এসে হামলাকারীরা গুলি চালান। এতে চালক ফেরদৌস আহত হন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হামলাকারী সরাসরি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। তাঁদের আরেক সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলি চালানোর সময় একজনের অস্ত্র আটকে যাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। পরে তিনজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
হামলার পর আহত চালককে হাসপাতালে নিতে নিজেই গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন টাইগার। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে এক নারীকে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়। পরে তিনি আহত চালককে নিয়ে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে নানাবতী হাসপাতালে যান।
হামলার পর আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছে সন্দেহভাজনদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। আহত চালক ফেরদৌসের বক্তব্যও নিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ও চেসিস নম্বরের সূত্র ধরে মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের চলাচল ও পালানোর পথ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম উল্লেখ করে হামলার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পোস্টে বলা হয়, টাইগারকে আগে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করায় তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অডিও বার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশও টাইগারের গাড়িতে হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করেনি।
সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের পেছনে রয়েছে ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ। ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় অভিনেতার বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র মনে করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লরেন্স বিষ্ণোই সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ওই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পরও বিষ্ণোই চক্রের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দায় স্বীকার করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বর্তমান হামলার সম্ভাব্য যোগসূত্র এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
হামলার পর টাইগার শ্রফের বাবা জ্যাকি শ্রফের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিনেতা ভালো আছেন। তাঁর মা আয়েশা শ্রফও ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ ফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার রাতে অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে।
সাক্ষাতের সময় টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে ড্রেসিং দেখা যায়। শিন্ডে সাংবাদিকদের জানান, গুলি না লাগলেও বারুদের প্রভাব ও ভাঙা কাচের টুকরায় অভিনেতা সামান্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় টাইগার ও তাঁর মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।
পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের হুমকিই সরকার সহ্য করবে না।
এদিকে হামলাকারীদের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং মাদক ও অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।