- ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এমন একটি বাগানের মতো, যেখানে বিভিন্ন রঙের ও জাতের ফুল একসঙ্গে প্রস্ফুটিত হয়। সেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, উৎসব কখনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সামাজিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সর্বজনীন আবেদন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে কাছাকাছি আনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা হলো সমাজের অন্যায়, অসত্য ও অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে, শান্তিপূর্ণভাবে ও নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, পূজার ছুটি বৃদ্ধি, পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানীর ব্যবস্থা করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ দেশের মানুষ শত শত বছর ধরে একই ভাষা, পোশাক ও লোকজ সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য দেশের সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ ধরনের অপচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে রিজভী ধর্মীয় সহাবস্থান, সমান নাগরিক অধিকার এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।