Monday, October 19, 2026

ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের


ফাইল ছবিঃ হাসনাত আবদুল্লাহ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজেই অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামতে হলো, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারের দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইশরাকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা বিবেচনার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

পোস্টে হাসনাত লেখেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। এসব প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি মাঠে নেমে এভাবে অভিযান চালাতে হবে কেন, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এ পরিস্থিতির দায় কি শুধু ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারও দায় রয়েছে? রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিও নিশ্চিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের মতে, কোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে শুধু একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পদ থেকে সরিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। বরং কেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে শৌচাগার পরিদর্শনের বিষয়টিও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে বিষয়গুলো দেখতে হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

হাসনাতের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হলে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো দায়িত্বে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি রাস্তায় নামতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান তাতে হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পোস্টের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেন হাসনাত। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত ইশরাক হোসেনের মতো ব্যক্তিদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন থেকে ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকার মাদক নির্মূলসহ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান।

ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা, দায়িত্ব বণ্টন এবং জবাবদিহির প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন