- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিস্থিতি কতটা অবনতির দিকে গেলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে নিজেই অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়।
হাসনাত বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। অথচ এ কাজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামতে হয়েছে। তাঁর মতে, এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে ইশরাক হোসেনকে এভাবে মাঠে নামতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দুর্নীতি, ঘুষ ও জমি দখলসংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ব্যর্থতার কারণেই একজন প্রতিমন্ত্রীকে মাদক নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়েছে।
হাসনাত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং কেন একজন প্রতিমন্ত্রীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ ঘটনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের হাতে অস্ত্র নেই। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁরা কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবির প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, ছবিতে ইশরাক হোসেনের পেছনে পাভেল নামের এক ব্যক্তিকে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চান তিনি।
বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসনাত। তবে অস্ত্রটির লাইসেন্স ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অপরাধের অভিযোগ উঠলে শুধু পদত্যাগ করিয়ে দায় শেষ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষায়, বড় ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পদত্যাগ করানো বর্তমান সরকারের ‘শর্ট টাইম প্যারাসিটামল থেরাপি’। অর্থাৎ, সাময়িক পদক্ষেপ নিয়ে মূল সমস্যার সমাধান এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়লে সেটির সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে শুধু পদত্যাগ করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন হাসনাত। তাঁর মতে, পদত্যাগ কোনো অপরাধের শাস্তির বিকল্প হতে পারে না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর এসব বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।