Tuesday, October 20, 2026

পদত্যাগের পর নাহিদ ইসলামকে কড়া বার্তা ইশরাকের, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি


ছবিঃ নাহিদ ইসলাম-ইশরাক হোসেন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

অস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করেছেন ইশরাক হোসেন। মাদক সমস্যার সমাধানের চেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া একাধিক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন ইশরাক। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বড় মাদক কারবারিদের উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে দেওয়া স্ট্যাটাসে ইশরাক লেখেন, একসময় তিনি নাহিদকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের একজন ধারক হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ মাদকের ভয়াবহতা ও প্রতিকার নিয়ে কথা না বলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।

তিনি আরও লেখেন, মাদক সমস্যার বিষয়টি আগে আলোচনায় আনার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা যেত। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে ইশরাকের মন্তব্য, তাঁদের প্রত্যাশিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে তিনি হতাশ।

অন্য একটি স্ট্যাটাসে নাম উল্লেখ না করে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ইশরাক। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি ফোন করে পরবর্তী মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁকে সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে এমন উদ্বেগও ওই ব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইশরাক প্রশ্ন তোলেন, আইনপ্রণেতা হিসেবে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বৈধ উপায়ে মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নিলেও যদি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে এ ধরনের উদ্যোগ কীভাবে কার্যকর হবে।

নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে দেওয়া আরেকটি বক্তব্যে ইশরাক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে মামলা করা হোক। এমনকি তিনি নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে অভিযোগের নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি বা সম্ভাব্য মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষ্য, মাদক মোকাবিলায় ভিন্ন ধরনের প্রতিকার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বড় মাদক কারবারি ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ইশরাক।

এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ইশরাক কেন পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে সরকারের বক্তব্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইশরাকের পদত্যাগ, মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাপ্রবাহ, সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এবং পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন