- ২২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্য, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সাফল্য এবং মানবকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে স্পেন সফরে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ক্রীড়া বিভাগে ২০২৬ সালের বিজয়ী নির্বাচিত হওয়া আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা আগামী ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি গ্রহণ করবেন।
স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ঐতিহাসিক তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোর প্রেক্ষাগৃহে রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়ার হাত থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করবেন মেসি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত। ১৯৮১ সালে প্রবর্তিত এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও খেলাধুলাসহ আটটি বিভাগে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা হয়। পুরস্কারটি প্রদান করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন।
এই পুরস্কারের ৪৩ বছরের ইতিহাসে মেসির স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একক কোনো ফুটবলার হিসেবে এবারই প্রথম এই সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। এর মাধ্যমে ফুটবল মাঠে তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি খেলাধুলার বাইরেও তাঁর অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।
গত ৩ জুন ওভিয়েদোতে জুরিবোর্ডের ঘোষণায় মেসিকে ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করার কথা জানানো হয়। বিশ্বজুড়ে মনোনীত ২৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মধ্য থেকে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। তাঁর দীর্ঘ ও সফল ফুটবল ক্যারিয়ার, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত বিনয়ের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় দাতব্য কার্যক্রম জুরিদের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীরা পান বিখ্যাত স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি স্মারক ভাস্কর্য, সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে এই পুরস্কার দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে।
ফুটবলে অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের অধিকারী মেসির জন্য এই স্বীকৃতি তাই কেবল আরেকটি পুরস্কার নয়; বরং ক্রীড়াক্ষেত্রের বাইরে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।