- ১১ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেলেও তাঁদের আন্দোলন থামবে না। বরং আগামী দিনে এই প্রতিবাদ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নয়াদিল্লির প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এর আগে সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তাঁরা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না, যাতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সরকার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে, যেন তারা নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে। তাঁর দাবি, ভীতি ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে সরকার। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করে তিনি বলেন, তাঁদের উচিত নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে লজ্জিত হওয়া।
সৌরভের ভাষ্য, সরকার বর্তমানে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে, কারণ তারা নিজেরাই চাপে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরুণদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিজেপির এই নেতা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সৌরভ। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিসহ দেশের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য যে ধরনের সুরক্ষা নেই, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা কেন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ সময় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারানসি আসনে নরেন্দ্র মোদির জয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সৌরভ। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির লিগ্যাল সেলের নেত্রী রত্না সিংও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ও দলের অন্য নেতারা অভিযোগ করেন, গত শনিবার আটক হওয়া তিন নেতাকে আইনসম্মতভাবে গ্রেপ্তার না করে কার্যত অপহরণ করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পৃথক স্থানে রাখা হয় এবং তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, তাঁদের ফোনে আপত্তিকর তথ্য সংযোজন করে ভবিষ্যতে হয়রানি করা হতে পারে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের পথ সংকুচিত করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগও তুলেছেন দলটির নেতারা। তাঁদের দাবি, পুলিশ সদস্যরা একটি গুরুদুয়ারে জুতা পরে প্রবেশ করেছিলেন, যা শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গত শনিবারের ঘটনাপ্রবাহ ভারতের জরুরি অবস্থার সময়কার দমন-পীড়নের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।
এদিকে, একই ঘটনায় আটক হওয়া সিজেপির আরেক নেতা অভিজিৎ দিপকে মুক্তি পাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দাদি মারা যাওয়ায় শেষকৃত্যে অংশ নিতে তিনি সেখানে যাচ্ছেন বলে জানান। যাত্রার আগে গণমাধ্যমকে অভিজিৎ বলেন, তাঁদের আন্দোলন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ১০ অক্টোবরের ঘটনা ভারতে একনায়কতন্ত্রের অবসানের সূচনাবিন্দু হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে সিজেপির অভিযোগ ও নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনটি আগামী দিনে কতটা বিস্তৃত হয় এবং সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।