Sunday, October 11, 2026

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ১২, নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি


ছবিঃ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ছিল হুতিদের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: বিশ্লেষণ (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। শনিবারের এ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। দেশটিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতিদের লড়াই চলছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থল অভিযানে সহায়তা করতে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে নিন্দনীয় হামলা হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে সংঘাতের গুরুতর বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মিসর, কাতার, জর্ডান, ওমান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ভারত, জাপান, কানাডা ও মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এসব দেশের বক্তব্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কাতার হামলাটিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ওমান সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে এ হামলার পর ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন