- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার রিচার্লিসনের ব্যক্তিগত দ্বীপের মালিকানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে দ্বীপটি বিনা মূল্যে দখলে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন টটেনহ্যামের এই স্ট্রাইকার। নিজের বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না পাওয়ার দাবি জানিয়ে ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।
রিচার্লিসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রিও ডি জেনেইরোর উপকূলের কাছে একটি দ্বীপ কেনার জন্য প্রায় এক কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বিনিয়োগ করেন তিনি। কিন্তু সেই বিনিয়োগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ফেরত পাননি বলে দাবি করেছেন এই ফুটবলার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রিচার্লিসন অভিযোগ করেন, দ্বীপটি ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে বিক্রি করার ইচ্ছা তার ছিল না। তা সত্ত্বেও মালিকানা নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন।
রিচার্লিসনের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বীপটির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু তার অভিযোগ, ফ্লাভিও বলসোনারো ও ওয়েলার টমাস নামের এক ব্যক্তি সেখানে যাওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।
ভিডিওতে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে রিচার্লিসন বলেন, বিচারব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, প্রায় এক কোটি রিয়াল বিনিয়োগ করেও তিনি কোনো অর্থ ফেরত পাননি এবং কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই অন্যরা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
দ্বীপটির মালিকানা কীভাবে অন্যের নিয়ন্ত্রণে গেল এবং তার বিনিয়োগ করা অর্থের কী হলো, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিচার্লিসন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীদের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে ব্যাখ্যা চাইতেও বলেছেন তিনি।
তবে রিচার্লিসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ব্রাজিলের ইনফ্লুয়েন্সার ও গায়িকা জুলিয়েটের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেন। ওই ভিডিওতে বলসোনারোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়েছিল।
বলসোনারোর মন্তব্যের জবাবে রিচার্লিসন সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আমার দ্বীপের কী হলো?’ তার এই মন্তব্যের পর দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও আলোচনার জন্ম দেয়।
ব্রাজিলে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একজন জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্যে এই বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে দ্বীপটির মালিকানা হস্তান্তরের প্রকৃত পরিস্থিতি, অর্থ লেনদেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য ছাড়া রিচার্লিসনের অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।