Monday, October 19, 2026

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প, জেলেনস্কিকে নিয়ে কড়া সমালোচনা


ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত তাঁর মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্বাগত জানান (সংগৃহীত । আল জাজিরা /অ্যালেক্স ব্র্যান্ডন/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথ খোলা রাখতে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আন্তরিক না থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ওপর নতুন করে কার্যকর হতে যাওয়া একাধিক নিষেধাজ্ঞা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ পরিষ্কার। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা অযৌক্তিকভাবে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিরোধিতা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ইউক্রেনের জন্য ক্ষতিকর হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নিজের অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছে এবং দেশটির বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের হত্যা করেছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প রাশিয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর দাবি, ইউরোপ থেকে বিপুল অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার পরও জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না, এমনকি শুরু থেকেই তাঁর সেই ইচ্ছা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানান। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরবরাহ বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ওই যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি অংশীদার দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তার মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের সমালোচনা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে সুবিধা দেওয়া হলে মস্কো আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

মতবিরোধের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চলছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং শান্তির পথ এগিয়ে নিতে ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়তা করে, সে লক্ষ্যেই কিয়েভ কাজ করছে। তবে তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া ছাড়া অন্য সবাই সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের অবসান প্রত্যাশা করছে।

এদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা থামেনি। দুই পক্ষই একে অপরের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মতপার্থক্য এখন নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আলোচনার পথ কতটা এগিয়ে নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন