- ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একসময়কার বামপন্থী আন্দোলন ও প্রতিবাদের পরিচিত কেন্দ্র এক্সারখিয়া। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সক্রিয়তা, অভিবাসীদের আশ্রয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পারস্পরিক সংহতির জন্য পরিচিত এই এলাকায় এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে আবাসনব্যবস্থা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একের পর এক ফ্ল্যাট ও ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি পর্যটক আবাসনে রূপান্তর করছেন। এতে বাড়ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর হারিয়ে যাচ্ছে পাড়াটির দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়।
৬৯ বছর বয়সী স্থপতি টোনিয়া কাতেরিনি ১৯৮৬ সাল থেকে এক্সারখিয়ার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। নিজের কম্পিউটারে সম্পত্তি কেনাবেচার নথি ও বিদেশি বিনিয়োগের তথ্য দেখিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, কীভাবে বদলে যাচ্ছে তাঁর পরিচিত পাড়া। কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশীদের একটি দল সরকারি নথির ভিত্তিতে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার তথ্য ডিজিটাল মানচিত্রে চিহ্নিত করছে। মানচিত্রে লাল বিন্দুর সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে অনেক এলাকা প্রায় লাল রঙে ঢেকে গেছে।
কাতেরিনি ও তাঁর প্রতিবেশীদের দাবি, এক্সারখিয়ার নতুন হোটেল ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনগুলোর বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে ইসরায়েলি বিনিয়োগ। তাঁর নিজের সড়কেও ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীরা দুটি ভবন কিনেছেন। নিচতলার একটি ফ্ল্যাটও এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বলে জানান তিনি।
তবে কাতেরিনি বলেন, নিচতলায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তাঁর উদ্বেগ মূলত আবাসন কেনাবেচার এমন একটি প্রবণতা নিয়ে, যা দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ও পাড়ার পরিবেশ বদলে দিচ্ছে।
এক্সারখিয়ার বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে এখন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান দেখা যায়। কোথাও লেখা, ‘এয়ারবিএনবি আমাদের গৃহহীন করছে’, আবার কোথাও বিদেশি বিনিয়োগ ও ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য লাগানো চাবি রাখার বাক্স ও প্রবেশপথের ডিজিটাল কিপ্যাডেও লাল রং ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন কর্মীরা।
এক্সারখিয়ায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন স্কুলশিক্ষক ক্রিসৌলা পাপাগেওর্জিউ। তাঁর স্মৃতিতে পাড়াটি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জায়গা, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল দৃঢ় সামাজিক বন্ধন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে বাড়ির মালিকেরা নিজেদের অতিরিক্ত কক্ষ পর্যটকদের ভাড়া দিতেন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুরো ভবন কিনে নিয়ে সেগুলোকে পর্যটকদের আবাসনে রূপান্তর করতে শুরু করে।
পাপাগেওর্জিউ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক ভাড়াটিয়া বাসস্থান হারান, খালি হয়ে যায় একের পর এক আবাসিক ভবন। একসময় শান্ত থাকা সড়কগুলোতে নতুন বার ও ক্যাফে গড়ে ওঠে; ফুটপাতজুড়ে বসানো হয় টেবিল-চেয়ার। অন্যদিকে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অভিবাসী, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং বেসমেন্ট বা নিচতলায় বসবাসকারী মানুষদের পক্ষে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট ব্যবসাতেও। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে বিভিন্ন স্কুলে। বন্ধ হয়ে গেছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে ও মুদি দোকানের মতো প্রতিষ্ঠান।
একসময় এক্সারখিয়ার দখল করা বিভিন্ন ভবনে শরণার্থী ও অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া হতো। পাপাগেওর্জিউর দাবি, মূল্যবান আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এসব ভবনের অনেকগুলোই পুলিশের অভিযানে খালি করা হয়েছে এবং পরে বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর হিসাবে, আগে এমন আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি; এখন মাত্র একটি ভবনে গৃহহীন অভিবাসী ও শরণার্থীরা আশ্রয় পাচ্ছেন।
সেই ভবনটিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিবেশীরা পাশে দাঁড়ান। সেখানে থাকা শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত নিশ্চিত করতেও তাঁরা সহায়তা করেন।
এদিকে ২০২২ সাল থেকে এক্সারখিয়া স্কয়ারের বড় অংশ নতুন মেট্রো স্টেশন নির্মাণের জন্য ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই চত্বরের উন্নয়নকাজের বিরোধিতা করেছিলেন অনেক বাসিন্দা। পাপাগেওর্জিউর অভিযোগ, এখন এলাকায় দাঙ্গা পুলিশও প্রায় নিয়মিত দেখা যায়।
তাঁর আশঙ্কা, মধ্য এথেন্সকে ধীরে ধীরে এমন একটি এলাকায় পরিণত করা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের চেয়ে পর্যটন ব্যবসার গুরুত্ব বেশি।
গ্রিসের আবাসন খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে অনাবাসী বিদেশিদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছিল। পরবর্তী বছরে এ প্রবাহ কিছুটা কমে আসে।
এথেন্সে বিদেশি সম্পত্তি ক্রেতাদের জাতীয়তা অনুযায়ী সরকারি কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। তবে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক রিম্যাক্স হেলাসের বার্ষিক বিক্রয় জরিপের বরাতে গ্রিক সাপ্তাহিক ‘তো ভিমা’ জানিয়েছে, রাজধানীকে ঘিরে থাকা আত্তিকা অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরায়েলিরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। তাঁদের পরেই রয়েছেন তুরস্ক ও লেবাননের ক্রেতারা।
এক্সারখিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৭৩ সালে কাছের এথেন্স পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। পরের বছর ওই সরকারের পতন ঘটে।
২০০৮ সালে এক্সারখিয়ায় পুলিশের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী গ্রিক শিক্ষার্থী আলেক্সান্দ্রোস গ্রিগোরোপুলোস নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কাতেরিনির ভাষায়, ওই ঘটনা ছিল শুকনো জমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার মতো। পরবর্তী সময়ে গ্রিসের ঋণসংকটের মধ্যে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হয় এবং ২০১৫ সালে বামপন্থী সিরিজা দল ক্ষমতায় আসে।
এমন রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে এক্সারখিয়ার বর্তমান পরিবর্তন শুধু আবাসনসংকট হিসেবে নয়, পাড়াটির পরিচয় ও সামাজিক ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কা হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা। এলাকাটিতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও সংহতিমূলক স্লোগানও চোখে পড়ে। কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলিদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।
তবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে বাণিজ্যিক বিবেচনা। এথেন্স-আত্তিকা রিয়েল এস্টেট এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একটি শাখার প্রধান ভাজেলিস লাজারিদিসের মতে, এক্সারখিয়া একসময় অবহেলিত এলাকা ছিল। শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান, মেট্রো ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তুলনামূলক কম ভবনসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তাঁর মতে, একবার কয়েকজন ক্রেতা কোনো এলাকায় বিনিয়োগ শুরু করলে অন্যরাও সেখানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
আবাসনবাজারের উত্তাপ কমাতে গ্রিস সরকারও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস গত মাসে জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর ক্রেতাদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী জুলাই থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, তুলনামূলক সাশ্রয়ী সম্পত্তি ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ-লাভের কারণে গ্রিস ইসরায়েলি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। নতুন কর কার্যকর হলে দেশটি তাঁদের কাছে আগের তুলনায় কম আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে লাজারিদিস মনে করেন, প্রস্তাবিত কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে দেরি হতে পারে কিংবা তা পিছিয়েও যেতে পারে। গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইন.জিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সময়সীমার আগে কিছু অ-ইইউ ক্রেতা দ্রুত সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করতে পারেন।
এক্সারখিয়াসহ মধ্য এথেন্সের কিছু এলাকায় নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘তো ভিমা’র তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রিসের ‘গোল্ডেন ভিসা’ আবাসন বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় কেনা সম্পত্তি এখন শুধু দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, খালি অফিস ভবনকে ফ্ল্যাটে রূপান্তর করে বিনিয়োগের একটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল পথও রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো থেকে শুরু হতে পারে।
এথেন্সে নিজস্ব আবাসন ব্যবসা পরিচালনাকারী ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত ইরিনা রন্দিয়াক বলেন, একসময় তাঁর বিদেশি ক্রেতাদের বড় অংশই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। তাঁদের কেউ কেউ পুরো অফিস ভবন কিনে হোটেলে রূপান্তর করতেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর মোট বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে হলেও চলতি বছরে তা কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।
তাঁর মতে, স্থানীয় তরুণদের জন্য রাষ্ট্র-সমর্থিত ‘স্পিতি মু’ বা ‘আমার বাড়ি’ নামের আবাসন ঋণ কর্মসূচি এবং নতুন বিধিনিষেধের কারণে গ্রিক ক্রেতারা আবার বাজারে ফিরছেন।
রন্দিয়াক বলেন, আগে শহরের কেন্দ্রে বসবাসের উপযোগী বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, কারণ অনেক সম্পত্তিই পর্যটকদের স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য ব্যবহৃত হতো। এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এথেন্সের শহরতলিতেও প্রতি বর্গমিটার বাড়িভাড়া ১০ থেকে ১৫ ইউরো। করের বোঝা ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে কিছু মালিক সম্পত্তি ভাড়া না দিয়ে খালি রাখছেন।
তবে এক্সারখিয়ার বাসিন্দারা বলছেন, নতুন লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িক এবং এর ফলে ইতিমধ্যে পর্যটক আবাসনে রূপান্তরিত ভবনগুলো আবার স্থানীয়দের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে না। অর্থসম্পদ থাকা বিনিয়োগকারীরা বিকল্প পথেও বাজারে প্রবেশ করতে পারেন বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এত পরিবর্তনের মধ্যেও পাপাগেওর্জিউ এখনো এলাকায় থাকতে পারছেন তাঁর বাড়িওয়ালির কারণে। কয়েক প্রজন্ম ধরে এক্সারখিয়ায় বসবাস করা ওই বাড়িওয়ালি ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাপাগেওর্জিউর ভাষ্য, তিনি এটিকে দেখেন একধরনের প্রতিবাদ হিসেবে। এমনকি বাড়িওয়ালির হিসাবরক্ষকও নাকি তাঁকে বলেছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে তিনি বাজারের প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাচ্ছেন।
এক্সারখিয়ার এই অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, পর্যটন ও বিদেশি বিনিয়োগ একদিকে শহরের আবাসনবাজারে অর্থ আনলেও অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বাসস্থান ধরে রাখা কঠিন করে তুলতে পারে। নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পাড়াটির পুরোনো সামাজিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।