- ১০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে সিদ্ধান্ত জানানোর ঘটনাকে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘নির্মম রসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এই নেতা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এ জন্য ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, অনেক চাকরিপ্রার্থী টিউশনির টাকা জমিয়ে কিংবা ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন চাকরি পাওয়ার আশায়। আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষা শুরুর ঠিক পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত। তাঁর মতে, নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে, যার ভার শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, এ ঘটনায় কোনো আমলা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে গড়ে ওঠা অনিয়মের চক্র ভাঙতে না পারলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দায়িত্বের জায়গা থেকে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে, পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির এক কর্মকর্তার আত্মীয়ের সংশ্লিষ্টতা এবং প্রার্থীদের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চুক্তির দাবিও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন তাঁদের অপেক্ষা নতুন পরীক্ষার তারিখ এবং অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের।