Saturday, October 10, 2026

পাকিস্তান সরে দাঁড়ানোয় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে সুযোগ পেল বাংলাদেশ


ছবিঃ হকিতে বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাদের জায়গায় বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজকেরা। ২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের পর এই প্রতিযোগিতায় আর খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এবার ভারতের মাটিতে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন লাল-সবুজের খেলোয়াড়েরা।

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস চলাকালে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে উদ্যোগ নেয় হকি ফেডারেশন। ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জাপানে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি তৈয়ব ইকরামের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। পাকিস্তান সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের জলন্ধরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকি। বাংলাদেশ ছাড়াও এতে অংশ নেবে স্বাগতিক ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন। প্রতিযোগিতাটি হবে লিগ পদ্ধতিতে। লিগ পর্বের ম্যাচগুলো জলন্ধরে অনুষ্ঠিত হলেও সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে মোহালিতে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ২৯ অক্টোবর জাপান, ৩০ অক্টোবর মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর চীনের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোকে নিজেদের ব্যয় বহন করতে হলেও বাংলাদেশের জন্য আবাসন ও যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি তৈয়ব ইকরাম বাংলাদেশের হকির উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

এশিয়ান গেমস শেষ করে সম্প্রতি দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যেই নতুন টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণ আসায় প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে হকি ফেডারেশন। হাতে সময় কম থাকায় দ্রুত জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফেডারেশন চাইছে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে। সেখানে ইন্ডিয়ান অয়েল ও এয়ার ইন্ডিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভারতীয় জাতীয় দল বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আরিফুল হক প্রিন্স। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এশিয়ান গেমসে খেলা জাতীয় দলের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কেও ক্যাম্পে ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রতিপক্ষগুলোর শক্তিমত্তা বিবেচনায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে চায় ফেডারেশন।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন জার্মান কোচ গেহার্ড পিটার। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে হকি ফেডারেশনের।

আরিফুল হক প্রিন্সের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কোচ নিয়োগ দিয়ে দলকে প্রস্তুত করা কঠিন হবে। বর্তমান কোচ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা রাখেন বলে তাঁকে দায়িত্বে রাখার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তাদের মতামতও বিবেচনা করা হবে।

জাপানে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমস হকিতে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। থাইল্যান্ডকে ৩-০, ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ এবং শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারায় দলটি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০, জাপানের কাছে ৬-১, চীনের কাছে ৭-১ এবং ভারতের কাছে ১০-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

এই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামবে দলটি। প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত ও মালয়েশিয়াকে বিশেষভাবে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে। এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতেছে ভারত, আর রানার্সআপ হয়েছিল মালয়েশিয়া। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলও বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে চারটি ম্যাচ খেলেও কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। সেবার প্রতিপক্ষের কাছে মোট ১৯ গোল হজম করতে হয়েছিল দলকে। ওই আসরে মালয়েশিয়া নাম প্রত্যাহার করায় খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

এবারের আসরে বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু অংশগ্রহণ নয়, আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করার চ্যালেঞ্জও থাকছে। সীমিত প্রস্তুতির মধ্যে দল কতটা গুছিয়ে উঠতে পারে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লড়াই।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন