- ১০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে হাদিকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওসমান হাদিকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাশেদ খাঁনের পোস্ট অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওসমান হাদি। এ সময় একই আসনে এনসিপির পক্ষ থেকে রিকশাচালক সুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে হাদিকে অসম্মান করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জুবায়ের হাদিকে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা তাঁকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন রাশেদ। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করার বিষয়ে ওসমান হাদি অনড় ছিলেন। তাঁর দাবি, হাদির মৃত্যুর পর এনসিপি ওই আসনে সুজনকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত না করায় আগের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি হাদির ভাই ওমর হাদির একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও উল্লেখ করেন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে হাদিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন রাশেদ। তাঁর দাবি, জীবদ্দশায় হাদি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য নষ্ট করা এবং আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। জামায়াত সম্পর্কেও তিনি সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন রাশেদ।
ওসমান হাদির রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, হাদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামের বিভিন্ন দিককে নিজের বক্তব্যে তুলে ধরতেন। তাঁর মতে, হাদিকে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর একটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রাশেদ। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগ্রামের তুলনা টেনে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসমান হাদির কবর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হওয়া নিয়েও পোস্টে আলোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির সমাধিস্থল নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা সমীচীন নয়। তাঁর দাবি, জীবদ্দশায় হাদি নিজের মৃত্যুর পর বাবার কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনার প্রতি হাদির শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে তাঁদের তুলনা করে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ। তাঁর দাবি, নুর ও ওসমান হাদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁরা একে অপরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নুরের বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি পরিষ্কার করতে নুরের প্রতি আহ্বান জানান রাশেদ।
রাশেদ খাঁন আরও জানান, শনিবার সকালে ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদির ভাইও মনে করেন, জীবদ্দশায় নুর তাঁর পক্ষে কথা বলেছেন এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির সুযোগ হয়—এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদির স্মৃতি ও আদর্শকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে তাঁকে সবার শ্রদ্ধার জায়গায় রাখা উচিত। তাঁর মতে, হাদিকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চললে তাঁর স্মৃতি আরও সর্বজনীনভাবে ধারণ করা সম্ভব হবে।
রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য ও অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।