Saturday, October 10, 2026

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল: রুহুল কবির রিজভী


ছবিঃ মণ্ডপগুলো পাহারা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি: রিজভী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন, নির্যাতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে আত্মত্যাগ করেছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা নাজির উদ্দিন জেহাদ। তাঁর আত্মদানের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং দীর্ঘ নয় বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে চেতনা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন আকস্মিকভাবে তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও খালেদা জিয়া আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, দেশের বাইরে অবস্থান করেও তারেক রহমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের অন্যতম প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম ও খুনের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এখনো আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সক্রিয় রয়েছেন।

প্রশাসনে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, যারা হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো উচিত নয়।

আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন এবং একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেন। তবে পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপশক্তি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপিত হতে পারে, সে জন্য বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মণ্ডপের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান রিজভী। তাঁর মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসব নির্বিঘ্ন করা সবার দায়িত্ব।

শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, ‘তোমার ৯০-এর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, মীর সরাফত আলী সফু এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ অন্য নেতারা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন