- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন পেতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে এ সময়সীমা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্তও গড়াতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই; অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ বিভাগ পৃথকভাবে গেজেট প্রকাশ করলে সেই অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কার্যকর হবে।
এদিকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে বাড়তি সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতার হিসাব হাতে-কলমে প্রস্তুত করতে হওয়ায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাঁদের নতুন স্কেলে বেতন পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাব নির্ধারণে সহায়তার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক অনলাইন ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নির্দেশনাও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পুরোনো স্কেলের গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা, বাড়িভাড়া এবং কয়েক মাসের বকেয়ার একটি হিসাব পাওয়া যায়।
তবে ক্যালকুলেটরটির সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। এ কারণে এতে পাওয়া হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গেজেটের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার হারও নিজ নিজ বেতন স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
ক্যালকুলেটরে কর্মচারীর নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান, পুরোনো মূল বেতন, জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ গৃহীত মূল বেতন, কর্মস্থল এবং বকেয়ার মাসসংখ্যা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িভাড়া ও বিশেষ সুবিধার প্রকৃত অঙ্ক সংশোধন করা যায়। নতুন মূল বেতন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা থাকলে সেটিও আলাদাভাবে যুক্ত করা সম্ভব।
ক্যালকুলেটরে দেখানো হিসাব অনুযায়ী, বকেয়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্যের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার সমন্বয় এবং আগে দেওয়া বিশেষ সুবিধার হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট এবং আইবাস ব্যবস্থার তথ্যই অনুসরণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কার্যকরের বিষয়ে নীতিগত আশ্বাস থাকলেও কবে থেকে তাঁরা নতুন হারে বেতন পাবেন, তা নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশের ওপর। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের।