Wednesday, October 14, 2026

নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪


ছবিঃ প্রতিবন্ধী যুবক কবির হোসেনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগ তুলে কবির হোসেন (৩৫) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে বহনকারী অটোরিকশাটিও।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সুধারাম মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত কবির হোসেন সুধারাম থানার নোয়ান্নই ইউনিয়নের নোয়ান্নই গ্রামের গাইন বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় ইসলামগঞ্জ বাজারে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় আলাউদ্দিন মুন্সীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।

পুলিশ জানায়, মারধরের পর গুরুতর আহত কবিরকে একটি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে নিয়ে ফেলে আসা হয়। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা কমলা বেগম বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর মঙ্গলবার রাতেই সুধারাম থানা পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন মামলার প্রধান আসামি আলাউদ্দিন মুন্সী (২৮), ফারুক উদ্দিন শুভ (২৪), হোসেন (৩৪) ও তারেক (২৩)। তাঁদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও মামলায় সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের মা কমলা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গেই বসবাস করতেন। দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে ঘোরাফেরা করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেন কবির।

কমলা বেগমের ভাষ্য, মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ছেলেকে আটক করে কয়েকজন। পরে নাইলনের রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তিনি।

ছেলেকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কমলা বেগম।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন