- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
তুরস্কের টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয়তা এখন আর দেশটির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে দর্শকের আগ্রহকে পুঁজি করে একের পর এক তুর্কি সিরিজ ও সিনেমা প্রকাশ করছে বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। সেই ধারায় নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া নতুন ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ অল্প সময়েই দর্শকের নজর কেড়েছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন-ইংলিশ সিরিজের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে এটি। প্রথম দুই সপ্তাহে সিরিজটির মোট ভিউ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখে।
মের্ত বায়কাল পরিচালিত সিরিজটির জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাসের সংকট এবং অতীতের এক গোপন সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য। পরিচিত ধরনের গল্প হলেও চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহ দর্শকের মধ্যে পরবর্তী পর্ব দেখার আগ্রহ তৈরি করছে।
‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ফুন্দা, চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন এলচিন সাঙ্গু। পেশায় চিত্রশিল্পী ফুন্দা মা হওয়ার পর সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের শিল্পীজীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান। পুরোনো সত্তায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক দায়িত্বের চাপে সেই পথ তাঁর জন্য সহজ হয়ে ওঠে না।
মেয়ের দেখাশোনার জন্য একজন আয়া নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন ফুন্দা। এভাবেই তাঁর জীবনে প্রবেশ করেন নাজলি, যাঁর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেলিস সেজেন। ধীরে ধীরে নাজলির ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন ফুন্দা। কিন্তু এই নতুন সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়িতে ফিরে নাজলিকে দেখে চিনতে পারেন।
ইলকারের সঙ্গে নাজলির অতীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই পুরোনো অধ্যায় সামনে আসতেই ফুন্দার সাজানো জীবনে দেখা দেয় অস্থিরতা। স্বামীর অতীত, দাম্পত্যের বিশ্বাস এবং নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে দর্শকের মনেও তৈরি হয় সন্দেহ—নাজলি কি কেবল চাকরির প্রয়োজনে এই পরিবারে এসেছেন, নাকি তাঁর আগমনের পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য?
সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ এর চিত্রনাট্য। দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাস কিংবা অতীতের সম্পর্কের প্রভাব এ ধরনের বিষয় পর্দায় নতুন নয়। তবে ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এ পরিচিত উপাদানগুলোকে রহস্যের আবহে সাজিয়ে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষ করে নাজলি চরিত্রটির রহস্যময় উপস্থিতি গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ে, তাঁর অতীত ও প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে দর্শকের কৌতূহলও তত গভীর হয়। ফলে গল্পের আকর্ষণ শুধু পরবর্তী ঘটনায় কী ঘটবে, তা জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; চরিত্রগুলোর আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা উদ্দেশ্যও হয়ে ওঠে আগ্রহের বিষয়।
দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেললেও সমালোচকদের কাছ থেকে সিরিজটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনবিষয়ক অনলাইন গণমাধ্যম ডিসাইডারের পর্যালোচনায় প্রথম পর্বের প্রশংসা করা হয়েছে। ফুন্দার মানসিক টানাপোড়েন, নিজের শিল্পীসত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দুই নারী চরিত্রকে ঘিরে তৈরি রহস্যকে গল্পের শক্তিশালী দিক হিসেবে বিবেচনা করেছে গণমাধ্যমটি।
অন্যদিকে, তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর পর্যালোচনায় চিত্রনাট্যের কিছু দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের কয়েকটি জায়গায় অস্পষ্টতা এবং একই বিষয় বারবার ব্যাখ্যা করার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পত্রিকাটি। তাদের মূল্যায়নে, কাহিনিতে সম্ভাবনা থাকলেও নির্মাতারা সব ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেননি।
তবে সমালোচকদের এই ভিন্নমতের মধ্যেও সিরিজটির দর্শকপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। নেটফ্লিক্সের নন-ইংলিশ সিরিজের তালিকায় শীর্ষে ওঠা এবং প্রথম দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ পাওয়া ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশেও তুর্কি ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। টেলিভিশনে বাংলায় ডাব করা সিরিজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নাটকের দৃশ্য ও ছোট ভিডিও নিয়মিত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বজুড়ে তুর্কি কনটেন্টের এই সাফল্য বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যেও নতুন সিরিজ নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে পারে।