Monday, October 12, 2026

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী


ছবিঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেওয়া রায়কে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্লাবটির মালিকপক্ষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে মন্তব্য করার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বিরোধী দলের দাবির পর এবার ম্যানচেস্টার সিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর অতীতের বৈঠকগুলোর তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে সিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যেসব বৈঠক হয়েছিল, সেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হবে। এসব বৈঠকের কোনোটিই সাম্প্রতিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য বৈঠক হয়েছিল একটি, ২০২১ সালে।

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। লিগের গঠিত স্বাধীন কমিশনের তদন্তে ক্লাবটির আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। তদন্তে বলা হয়, বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৮৩ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ গোপনে ক্লাবটির ফুটবল কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছিল।

গত মাসে ঘোষিত রায়ে তদন্তে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে তদন্তে অসহযোগিতার একটি অভিযোগ থেকে ক্লাবটি অব্যাহতি পায়। এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। শুরু থেকেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্লাবটি।

রায় ঘোষণার পর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সিটির মালিকেরা ক্লাবটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি ‘সত্যিই উদ্বিগ্ন’ হবেন। তাঁর এ বক্তব্যের পর প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাবের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি স্পোর্টের সূত্র। আপিলের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়।

এরপর বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনক সিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সব বৈঠকের তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। এবার সেই দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বার্নহ্যাম।

‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বৈঠকগুলোর বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। তিনি আনন্দের সঙ্গেই এসব তথ্য প্রকাশ করবেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও বৈঠকের তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন বার্নহ্যাম। তাঁর মেয়াদকালে শহরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবলেও ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতি তাঁর মেয়র হওয়ার আগেই শহরটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিল।

সিটির মালিকপক্ষের বিষয়ে নিজের আগের মন্তব্যকে ভুল বলে মনে করেন না বার্নহ্যাম। তাঁর যুক্তি, ফুটবলের আর্থিক অনিয়ম এবং ম্যানচেস্টারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ—দুটি পৃথক বিষয়। তাঁর মতে, প্রশ্নের ধরনেই বিষয় দুটিকে একসঙ্গে আনা হয়েছিল। তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় সব বিষয় তাঁর বিবেচনায় ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

একই সঙ্গে সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগের গুরুত্বও স্বীকার করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ফুটবলের আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত অনুসন্ধানে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা গুরুতর।

২০২৪ সালে টানা ৪২ দিন শুনানির পর স্বাধীন কমিশন গত মাসে রায় ঘোষণা করে। কমিশনের প্রতিবেদনে সিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন; তাঁদের কেউ কেউ জেনেশুনে অসত্য ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন বলেও পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

এখন মামলাটির পরবর্তী ধাপে সিটির আপিল শুনবে পৃথক একটি স্বাধীন আপিল বোর্ড। ফলে ক্লাবটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই মাঠের খেলায় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। গত রোববার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে দলটি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রায়ের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন