- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির নির্বাচন ও আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের মোগলটুলী এলাকার ফারুকী হাউজে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রের দাবি, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের অনুসারীরা এ হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত। তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতৃত্ব ও পদবিন্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। আসন্ন কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক প্রভাব ধরে রাখার প্রশ্নে এই বিরোধ আরও তীব্র হয়। বুধবার রাতে সেই উত্তেজনা থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ প্রায় ৩০ বছর ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। এবার নতুন আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।
এদিকে মহানগর জামায়াতের দুই নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক মামুনকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর নতুন আমির নির্বাচন নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। এতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের নাম আলোচনায় আসে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, এমদাদুল হক মামুনের সমর্থকদের একটি অংশ তাঁকে মহানগর জামায়াতের আমির হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে মাহবুবুর রহমানের ভূমিকা থাকতে পারে—এমন সন্দেহ থেকেই তাঁর ওপর অসন্তোষ তৈরি হয় বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন। মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক সভাস্থলে ঢুকে হইচই শুরু করেন। পরে তাঁরা চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ আরও জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন ও সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন আমির নির্বাচন সামনে রেখে এ ঘটনা কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিরোধকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।