- ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের ঠিক সামনের একটি অভিজাত ভবনের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে তিন লাখ ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এসব মাদক ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে মজুত করা হয়েছিল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত শহরের বাহারছড়া এলাকার নিউ সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর খাকি টেপে মোড়ানো ৩০টি প্যাকেটে রাখা ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মো. শামীম (৩০) ও ভোলার মো. রাকিব (২৫)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের একটি কেবিনেটের ভেতরে রাখা দুটি ব্যাগ থেকে ৩০টি প্যাকেটে এসব ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবাগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জে মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য সেখানে রাখা হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি রাহাদের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার আরমান বয়াতী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, এর আগেও দুই লাখ পিস করে ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা রাহাদের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটটিতে কারা যাতায়াত করতেন, তা শনাক্ত করতে ভবনটির গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মাদক মজুত ও পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজন ও পলাতক রাহাদ পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে অবস্থিত ভবনে বিপুল পরিমাণ মাদক মজুতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম হেলালী।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থাপনার ঠিক সামনের ভবনে মাদক মজুত ও ব্যবসা পরিচালনার ঘটনা কারবারিদের বেপরোয়া মনোভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, শহরে আরও মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। এসব চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
কক্সবাজার শহরকে ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।
তিনি বলেন, শহরের কিছু অভিজাত ভবনে বড় মাদক কারবারিদের অবস্থান এবং সেসব স্থাপনা মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের পরিচয় ও কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই না করলে এ ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মমতাজ উদ্দিন বাহারী আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কিংবা সাংবাদিকদের কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। পরিচয় বা পেশা বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত ভবনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা কক্সবাজার শহরে মাদক মজুত ও পাচার ঠেকাতে নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, পাচারচক্রের বিস্তৃতি এবং পলাতক রাহাদের অবস্থান সম্পর্কে তদন্ত শেষে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।