- ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটির উপকণ্ঠে চালানো এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ মঙ্গলবার জানান, হামলার পর উদ্ধার কার্যক্রম শেষে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ বলেন, রাশিয়ার একটি দূরপাল্লার ড্রোন শিশুদের জন্য নির্ধারিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আঘাত হানে, এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।
এদিকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উক্রএনারগো জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিয়েভে জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চালু করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কতদিন চলবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর ত্কাচেঙ্কো জানান, রাজধানীতে অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো বলছে, এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে এ হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এক রাতেই রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ২৯৩টি ড্রোন ও ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ২৪০টি ড্রোন ও সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তোলার’ অভিযোগ তুলেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, মস্কোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয় চেষ্টা চালালেও এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এর আগে ইউক্রেন দাবি করে, গত সপ্তাহে শত শত ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরই তারা জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানায়। ওই হামলায় দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়, যা ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাশিয়া দাবি করেছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের লভিভ শহরের কাছে একটি বিমান মেরামত কারখানা। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলার জবাবে চালানো হয়েছে—যে হামলায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ইউক্রেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র একে ভিত্তিহীন বলেছে।