- ১২ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শাসনাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রদেশটির নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা স্থগিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পরামর্শে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী সরকার পরিচালনায় প্রাদেশিক প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সহিংসতার ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পিটিআই সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নতুন ব্যবস্থায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মিত্র। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পদধারীদের দায়িত্বও স্থগিত করা হয়েছে। গভর্নরকে সহায়তা করতে ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী সাবেক উপজাতীয় অঞ্চলসহ ১২টি জেলায় আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছে কেন্দ্র। এসব এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে সরকার। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির ভাষ্য, সংঘাতপ্রবণ জেলাগুলোতে বাড়তি অর্থায়ন ও বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে পিটিআই। দলটির নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি যদি নির্দিষ্ট কিছু জেলায় হয়ে থাকে, তাহলে পুরো প্রদেশে গভর্নরের শাসন কার্যকর করার যৌক্তিকতা নেই। দলটির নেতা ও সাবেক প্রাদেশিক অর্থমন্ত্রী তাইমুর ঝাগরা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সোমবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, প্রাদেশিক দলের সভাপতি জুনায়েদ আকবর, আইনসভার স্পিকার বাবর স্বাতীসহ আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে। তবে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা সরকার প্রকাশ করেনি বলে দলটির অভিযোগ।
পরিস্থিতির প্রভাবে পেশোয়ার, মারদান, সোয়াবি ও নওশেরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রদেশের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের খবর দিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়। পিটিআই জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি এবং সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আদালত ও আইনসভায় চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, প্রাদেশিক পরিষদের অনুমোদন ছাড়া জরুরি অবস্থা জারি করা হলে ১০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিষদ ও সিনেটে তা অনুমোদনের জন্য তুলতে হয়। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর যৌথ সংসদীয় অধিবেশনেও বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। অন্যদিকে গভর্নরের শাসন নির্দিষ্ট সময় পরপর সংসদের অনুমোদন নিয়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
জরুরি অবস্থার মেয়াদ, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কত দিন বহাল থাকবে এবং পিটিআইয়ের আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হবে এসব বিষয় এখন পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।