- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাঙামাটি
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে শরীরে পাথর বাঁধা অবস্থায় আরাফাত (১৮-১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাছ ধরার নৌকার মালিক মো. শফিককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলার বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের জোড়াটিলা এলাকার হ্রদের পানির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, যুবককে হত্যার পর তাঁর শরীরে পাথর বেঁধে হ্রদে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আরাফাত। তিনি শফিকের মাছ ধরার নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। নৌকাটিতে কাচকি মাছ ধরার জাল টানার কাজ করতেন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
একপর্যায়ে লংগদু উপজেলার মহালছড়ি এলাকা থেকে নৌকার মালিক শফিককে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে সুবলং ইউনিয়নের জোড়াটিলা এলাকায় পানির নিচ থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করেন রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।
নিহত আরাফাতের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ১৯ বছর হলেও তাঁর বাড়ি কোথায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় নৌকার মালিক শফিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকের শরীরে পাথর বাঁধা ছিল। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শফিককে আটক করা হয়েছে। মরদেহটি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।