- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিবর্তে দেশটির অংশ হিসেবেই থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন আলবার্টা প্রদেশের অধিকাংশ ভোটার। প্রদেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিচ্ছিন্নতা-সংক্রান্ত গণভোটে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, বিচ্ছিন্নতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩ শতাংশ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ১০ লাখের বেশি ভোট গণনার পর এ চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এ ভোট সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণার প্রশ্নে ছিল না। বরং এর মাধ্যমে কানাডা থেকে আলবার্টার বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে ভবিষ্যতে আরেকটি গণভোটের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত।
এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আলবার্টার বাসিন্দারা ঐক্যের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে দেশ গঠন এবং পরস্পরের পাশে থাকার প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে কানাডার জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কার্নি। এমন পরিস্থিতিতে আলবার্টার ভোটের ফলাফল তাঁর সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে গণভোটে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রায় না এলেও স্বাধীন আলবার্টার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্টের শীর্ষ নেতা জেফরি রাথ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই লড়াই থেকে তাঁদের অনেক শিক্ষা হয়েছে এবং স্বাধীনতার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রদেশটির রক্ষণশীলপন্থী প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, তিনি নিজে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্তি তৈরি করা এই ইস্যুতে মানুষের মতামত স্পষ্ট করতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য। এর আগে তিনি বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট পড়লে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নটি বন্ধ হয়ে যাবে।
আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ তেলশিল্প নিয়ে অসন্তোষ। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে কানাডার এই প্রদেশে। তেল উৎপাদন ও শিল্পটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতা থেকেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবির প্রতি সমর্থন বেড়েছে বলে মনে করা হয়।
প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের বিরুদ্ধে তেল উৎপাদন সীমিত করার চেষ্টা এবং জলবায়ুবিষয়ক নীতির মাধ্যমে শিল্পটির ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব জোরালো করতে ভূমিকা রেখেছে।
আলবার্টার স্বাধীনতার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলেরও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছিল। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আলবার্টাকে ওয়াশিংটনের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্পের সমর্থক এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছিলেন, আলবার্টার বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত।
আলবার্টায় জন্ম নেওয়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাদেশিক সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তেল রপ্তানি বাড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগে তিনি ড্যানিয়েল স্মিথের সঙ্গে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে আলবার্টার তেল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারে আরও বেশি পরিমাণে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শাসনামলে যে পাইপলাইন প্রকল্পকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, কার্নির সময়ে সেটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
আলবার্টার গণভোটের ফলাফল আপাতত কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবির গতি কমিয়ে দিতে পারে। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থেকে স্পষ্ট, তেলশিল্প, পরিবেশনীতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রদেশের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক এখনই শেষ হচ্ছে না।