Monday, October 12, 2026

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি, দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিলে উত্তেজনা-নিরাপত্তা জোরদার


ছবিঃ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ভারতের সংবিধানের একটি কপি তুলে ধরেন (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেছেন বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। ভোটার তালিকায় কারচুপি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এদিকে মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবারের এ কর্মসূচিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর নেতারা অংশ নেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। তবে প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হননি। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘কিছু কারণে’ তিনি বৈঠকটি এড়িয়ে গেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের উত্থাপন করতে চাওয়া কয়েকটি বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ থাকতে পারে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তারা ওই চিঠি দেখেনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁদের উদ্বেগের কথা শোনা হবে এবং আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা হবে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী সোমবারের মিছিলে যোগ দিতে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে আহ্বান জানান। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে তিনি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে নির্বাচনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি তাঁদের আবেদন করতে বলেছেন। মিছিল শেষে তাঁরা আদালতে আবেদন জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।

দিল্লির প্রশাসন মিছিল ঘিরে যান চলাচল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। মধ্য দিল্লি ও মিছিলের নির্ধারিত পথজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার কিছু আগে রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের বহনকারী একটি বাস বারাখাম্বা রোডে পৌঁছালে সেখানে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। তাঁরা পতাকা নাড়িয়ে ও স্লোগান দিয়ে নেতাদের স্বাগত জানান। বাসটি মান্ডি হাউসে পৌঁছালে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতা ছাদে উঠে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এ সময় অন্য বাসের ওপরও উঠে পড়েন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। তাঁদের মধ্যে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

গত এক সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার অল্প সময়ের জন্য আটক হয়েছেন।

এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীও নির্বাচনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। গত গ্রীষ্মে তাদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে কর্তৃপক্ষের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়, বহু মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দীপকে তাঁর দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরে গেলেও দাস ও রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে রোববারের বিক্ষোভে তাঁরা অংশ নেননি। পুলিশের কাছ থেকে নতুন কর্মসূচির তারিখ চাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে হাজারো মানুষকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবিতে পুলিশকে নারীসহ বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলতে দেখা গেছে। বিবিসির ধারণ করা একটি ভিডিওতেও আটক এক বিক্ষোভকারীকে বাসের ভেতরে এক পুলিশ সদস্যের চড় মারার দৃশ্য রয়েছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সাংবাদিকদের আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তত ১৬ জন ভারতীয় সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়; এটি সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা তরুণদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই তরুণেরা ঘৃণা বা ক্ষোভ নয়, বরং ভালোবাসা নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন বিরোধী দল ও সিজেপির বিরুদ্ধে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিদেশি শক্তির ইঙ্গিতে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তবে কোন শক্তির কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন