Monday, January 19, 2026

ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় ভূখণ্ড বিতর্ক অব্যাহত


ছবিঃ একজন চিকিৎসাকর্মী ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ইউক্রেনের কিয়েভে রুশ ড্রোনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ ওঠা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক বাসিন্দাকে সহায়তা করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । থমাস পিটার/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

২০২৫ সালে সামরিক সাফল্য দেখানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় প্রভাব ফেলতে ইউক্রেনে নিজেদের দখল দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইন শহর দখল করেছে। তবে পশ্চিমা পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব দাবির বড় অংশই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

গত শুক্রবার বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন জানান, রাশিয়ার সেনারা ডনেস্ক অঞ্চলের সিভেরস্ক এবং খারকিভ অঞ্চলের ভোভচানস্ক দখল করেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, লিমান ও কস্তিয়ানতিনিভকার অন্তত অর্ধেক এবং দক্ষিণের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোলেও রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবি ও উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য পুতিনের বক্তব্যকে সমর্থন করে না। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুলিয়াইপোলের মাত্র ৭ শতাংশের কিছু বেশি এবং লিমানের প্রায় ৩ শতাংশ এলাকায় রুশ উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। কস্তিয়ানতিনিভকার ক্ষেত্রেও দখলের পরিমাণ ৫ শতাংশের বেশি নয়।

এমনকি রুশ সামরিক ব্লগারদের তথ্যেও পুতিনের দাবির সঙ্গে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। আইএসডব্লিউর মতে, রুশ বাহিনী লিমানের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ এবং কস্তিয়ানতিনিভকার প্রায় ১১ শতাংশ এলাকায় সীমিত অগ্রগতি দেখিয়েছে।

এর আগে ক্রেমলিন খারকিভের কুপিয়ানস্ক ও ডনেস্কের পোকরভস্ক পুরোপুরি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, পোকরভস্ক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা আক্রমণে রাশিয়াকে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে হটিয়ে দিয়েছে।

রুশ সামরিক নেতৃত্বের হিসাবেও বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের শেষে রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ দাবি করেন, এ বছর ৬ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করা হয়েছে। তবে আইএসডব্লিউ বলছে, প্রকৃত দখল ৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব থাকলেও ভূখণ্ড প্রশ্নে এখনো ঐকমত্য হয়নি। রাশিয়া চারটি অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ থেমে নেই। সাম্প্রতিক সপ্তাহে রাশিয়া শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি ঘটেছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যুদ্ধকালীন অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে শত শত বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—দখল দাবির সত্যতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার ওপর।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন