Saturday, October 10, 2026

ইজিবাইকে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে বাড়তে পারে চালকদের আয়


ফাইল ছবিঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। যশোর

পরিবেশদূষণ কমানো, বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয়ী করা এবং ইজিবাইকচালকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে একবার চার্জে ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। এতে চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের সিসিটিএসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর উত্তরখানে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারির কার্যকারিতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং সম্ভাব্য সুফল যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একবার চার্জে দীর্ঘ পথ চলতে পারলে চালকদের বারবার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে কর্মসময়ের আরও কার্যকর ব্যবহার এবং আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

দেশের শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থায় ইজিবাইকের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এসব যানবাহন এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ইজিবাইকের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, চার্জের খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো চালকদের দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না, পরিবেশ সুরক্ষার দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাপার যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুল হক মনি। সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক হক সাবুসহ অন্যরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন