- ২১ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গোপনে ইসরায়েল সফর করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হেগসেথের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই বৈঠক হয়েছে। ইসরায়েলের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে দুই নেতার সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আল জাজিরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নয় দপ্তরটি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই কমান্ডের দায়িত্বাধীন অঞ্চলের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশ রয়েছে।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে হেগসেথ ও নেতানিয়াহুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
হেগসেথের ইসরায়েল সফরের খবর এমন সময় সামনে এল, যখন আগামী সপ্তাহে দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মাত্র এক দিন আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে নেতানিয়াহুর ভূমিকার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। ওই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষেও সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। সোমবার ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম টু-ওয়ে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না।
ভ্যান্স বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন করেন এবং বর্তমানে তাঁর মনোযোগ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করছেন না, আবার তাঁকে সমর্থনও দিচ্ছেন না ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তিনি জড়াতে চান না বলে স্পষ্ট করেন ভ্যান্স।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হাঙ্গেরির নির্বাচনের আগে দেশটিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হেগসেথের গোপন সফর, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।