- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভারত সফর শেষ করে বাংলাদেশে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। এবারের সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে ক্যারিবীয়রা। সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য ও ঘরের মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কথা স্বীকার করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। তবে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে তাঁর দলও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ দেশের মাটিতে টেস্ট হেরেছিল টাইগাররা। এরপর টানা পাঁচটি টেস্টে জয় পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই সময় আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ।
দলের এই সাফল্যে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ক্রিকেটাররা। বল হাতে তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন অধিনায়ক শান্ত, লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের কারণে আসন্ন সিরিজে কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও। গত রাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের হায়দরাবাদ থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে ড্যারেন স্যামি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর দল প্রস্তুত।
২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে দুই দলের অবস্থানেও বড় ব্যবধান রয়েছে। ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের সামনে এখনো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে ক্যারিবীয়রা ইতোমধ্যে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে। তবে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান উন্নত করার সুযোগ এখনো রয়েছে তাদের সামনে।
স্যামি জানিয়েছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রের শুরুতেই দলের জন্য কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল পয়েন্ট তালিকার প্রথম অর্ধে জায়গা করে নেওয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারবে তাঁর দল।
বাংলাদেশ সফরের দল নির্বাচনে কয়েকজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বাইরে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলে জায়গা পাননি শাই হোপ ও আলজারি জোসেফ। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো জাতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন ব্যাটার কেভিন উইকহাম।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপের চার দিনের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে রান করেছেন উইকহাম। সেখানে তিনি ১০৫ ও ১৫৩ রানের ইনিংস খেলার পর অপরাজিত ১০৮ রান করেন। পুরো প্রতিযোগিতায় ৭৮ দশমিক ৬০ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৩৯৩ রান। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পারফরম্যান্সই তাঁকে জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে।
গত বছর সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে সময় টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ক্যারিবীয়রা। তবে ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল ২০২১ সালে। সেবার দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে এবারের সিরিজে ঘরের মাঠের সাম্প্রতিক সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি আগের সেই হারের স্মৃতিও পেছনে ফেলতে চাইবে বাংলাদেশ।
বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি আজ হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ হবে আগামী শনিবার বেঙ্গালুরুতে। ভারত সফর শেষ করেই বাংলাদেশে আসবে ক্যারিবীয় দল।
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্ট মিরপুরে ৮ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়ানোর কথা ৫ নভেম্বর সিলেটে।
ঘরের মাঠে টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস, বোলারদের কার্যকারিতা এবং ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা সব মিলিয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট বাড়ানো এবং নিজেদের অবস্থান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে দুই দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আধিপত্য কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।