- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের পৃথক ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং এর নাম পরিবর্তন করে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নাম চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার পথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। বর্তমান ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। এই জটিলতা কমিয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে উদ্যোক্তারা একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন। একই জায়গা থেকে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের পর ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমার পাশাপাশি সেবা পেতে সময়ও বাঁচবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ। পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা এ ধরনের কোনো নামে রূপান্তরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সভায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়ন জমা দেওয়ার পরও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক জটিলতা থাকা উচিত নয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশি কর্মীরা সাধারণত দেশে বৈধভাবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকেরাও দেশের বৈধ নাগরিক। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে অযথা বিলম্ব বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
সচিবালয়ে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নেওয়া উদ্যোগ এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।
টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধক এবং অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সমন্বিত অনলাইন পোর্টাল চালু, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং বিদেশি কর্মীদের ছাড়পত্র নবায়নের জটিলতা কমানোর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে উদ্যোক্তাদের প্রশাসনিক ভোগান্তি কমতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।