- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের হুমকিতে ভয়ে দুই দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি ওই নারী। পরে স্বজনদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রীপুর থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
মামলায় নয়ন মিয়া (২৮) ও ফারুক (৩০) নামে দুজনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ‘লিলি’ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি শেরপুরের বাসিন্দা। স্বামীকে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।
লিলির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে তারা ওই এলাকার হারুনের বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন। এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রী মিলে বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর প্রস্তুতিও শুরু করেন তারা।
এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন এসে তাঁর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও স্বামী ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন লিলি। পরে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে তাঁর স্বামী বাড়িতে ফেরেন।
অভিযোগে লিলি জানান, রাত সাড়ে আটটার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়ন আরও দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় ফারুক দাবি করেন, তাঁর স্বামীর কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। এরপর তাঁর কথামতো কাজ করলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।
লিলির অভিযোগ, এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি তাঁর হাত বেঁধে ফেলেন। গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং দুই পা বেঁধে রেখে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি বারবার তাঁদের কাছে আকুতি-মিনতি করলেও কেউ তাঁর কথা শোনেননি। ভয়ে আশপাশের লোকজনও এগিয়ে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ির আশপাশে নজরদারি করছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন লিলি। তাঁদের হুমকির কারণে থানায় যাওয়ার সাহস পাননি তিনি। পরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী।
লিলির স্বামীও অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় তাঁকে পাশের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন এমন কথা বলে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্বামীর ভাষ্য, ঘটনার পর তাঁকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেওয়া হলে তিনি নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ ঘটনার বিচার চাইতে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে ভীত হয়ে তাঁরা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে আত্মীয়স্বজনকে খবর দিলে তাঁদের সহায়তায় থানায় পৌঁছান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পর থানার পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।