- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের পর আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন জিয়াউল ইসলাম কাজলের ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না এবং আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তুষার। মঙ্গলবার রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে আইভীর সমর্থকদের একাংশ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়িতে ওঠার আগে আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে থামিয়ে রাখা যাবে না।’ এরপরই তাঁর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন জিয়াউল ইসলাম কাজলের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন তাঁর এক নিকটাত্মীয়। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাজলকে স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। বরং আদালতের নথিপত্রের ফাইল হাতে আইভীর পাশে হাঁটতে দেখা গেছে তাঁকে। আইভীর আইনজীবী হিসেবে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন বলেও দাবি করেন ওই স্বজন। কাজল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও তাঁর দাবি।
ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রেহানুল জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ, ভিডিওর ভিত্তিতে শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।