- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজার বড় বড় উচ্ছেদপ্রাপ্ত শিবিরগুলোতে প্লাস্টিকের চাদর ও ফাটা তাঁবুতে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দেশটিতে ইতিমধ্যেই দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলের হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ, খাদ্য সংকট ও বিশৃঙ্খলার মাঝে ঘূর্ণিঝড় “বায়রন” নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
এই ঝড় শুধু খারাপ আবহাওয়া নয়; এটি গাজার উচ্ছেদপ্রাপ্তদের জন্য জীবনযুদ্ধে আরেকটি বড় ঝুঁকি। প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে নিম্নাঞ্চলীয় তাঁবু এবং তৎপরতাহীন আশ্রয়স্থলগুলিতে প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
শিবিরের বেশিরভাগ তাঁবু ত্রুটিপূর্ণভাবে ধ্বংসাবশেষ ও প্লাস্টিকের মাধ্যমে তৈরি। কাদা-ভরা পথ, ভাঙা খোঁড়া নালা এবং সীমিত সম্পদ নিয়ে পরিবারগুলো ঝড়ের মোকাবিলা করতে বাধ্য। “বাতাস শুরু হলে আমরা সবাই তাঁবুর খুঁটি ধরেই রাখি যাতে তা না ভেঙে পড়ে,” বলেন পশ্চিম গাজার হানি জিয়ারা।
খাবার, পানি ও আশ্রয় সামগ্রী সীমিত। অনেক পরিবার কয়েকদিনের জন্যও পর্যাপ্ত পানি বা খাদ্য সরবরাহ পায় না। “আমরা প্রস্তুতি নিতে চাই, কিন্তু কীভাবে? আমাদের কাছে যা নেই, তা আমরা সংরক্ষণ করতে পারি না,” বলেন মরভিত নামের এক মা।
যে কোনও প্রস্তুতি সীমিত হলেও, গাজার মানুষদের মধ্যে সহমর্মিতা সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। প্রতিবেশীরা একে অপরকে সাহায্য করে, যুবকরা ধ্বংসাবশেষ থেকে কাঠ ও ধাতু সংগ্রহ করে তাঁবু শক্ত করে, এবং নারীরা সাম্প্রদায়িকভাবে রান্নার ব্যবস্থা করে শিশু ও বৃদ্ধদের খাবার পৌঁছে দেয়।
শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও প্রবল। অনেকেই আক্ষেপ করছেন, “আমাদের তাঁবু ধ্বংস হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ ক্লান্ত। প্রতিদিন নতুন ভয়: ক্ষুধা, শীত, রোগ এবং এবার ঝড়।”
বাতাস ও বৃষ্টির মুখে তাঁবু শক্ত করার জন্য পাথর ও বালির ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু পরিবার শিশুদের কম শুষ্ক কোণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে অনেকের কাছে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নেই; তারা শুধু অপেক্ষা করছে।
গাজার উচ্ছেদপ্রাপ্তরা জানে, ঝড় কেবল একটি রাতের ঘটনা নয়। এটি জীবন কতটা ভঙ্গুর হয়ে গেছে তার আরেকটি কঠিন স্মারক। বেঁচে থাকা এখন প্রস্তুতির ওপর নয়, সহ্য করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।