Saturday, October 10, 2026

এসএসসিতে ফেল করলে তিন মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ, ইতিবাচক বিবেচনায় সরকার


ছবিঃ এসএসসি পরীক্ষার্থী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এসএসসিতে ভালো ফলাফল করলেই জীবনে সফলতা নিশ্চিত হয় না। একইভাবে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করলেই কাউকে ব্যর্থ বলা যায় না। কেউ খেলাধুলায়, কেউ সংস্কৃতিতে, কেউ বিজ্ঞানের উদ্ভাবনে, আবার কেউ ব্যবসায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। একটি বিষয়ে খারাপ ফলাফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা সনদ দিয়ে একজন মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা বিচার করা উচিত নয়।

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কারও জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, আবার কাউকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর ব্যবসা করার সম্ভাবনা বা ভালো ধারণা রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রাথমিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে জাপানি, কোরীয়, চীনা এবং পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিন থেকে ছয় মাসের ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবে।

মাহদী আমিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীর খারাপ ফলাফলের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আর্থিক সংকট, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল অবকাঠামো, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলেই একজন শিক্ষার্থীকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষকের সংকট থাকলে তা পূরণ করা, শ্রেণিকক্ষের অভাব থাকলে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তাঁর মতে, প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। তাই তাঁদের জন্য নেওয়া সরকারি উদ্যোগও হতে হবে বহুমুখী। যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের পাশাপাশি যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব রয়েছে। ফলাফলের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন নিজেকে অবহেলিত মনে না করে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, আগে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো। এখন উত্তরপত্রের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তন অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার শুধু ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি কিংবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করতে চায়।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণ, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হওয়া মানসিক চাপ এবং এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন