- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি, বাজার কারসাজি কিংবা জনভোগান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কেউ বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার করলে সরকার তা বরদাশত করবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। তাই এ পণ্যকে ঘিরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কিংবা বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
দেশে এলপিজি সংকট কবে নাগাদ কাটবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে এলপিজি উৎপাদিত হয় না; চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বেসরকারি আমদানিকারকেরা সাধারণত যেসব অঞ্চল থেকে এ পণ্য সংগ্রহ করেন, সেসব এলাকায় যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমদানিকারকদের বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই নয়, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে পর্যাপ্ত এলপিজি নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তবে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানোর মতো সময় এখনো আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে এলপিজির খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাঁদের বৈঠক চলছে। কমিশনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত সূত্র অনুসরণ করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঠিক করা হয়। কমিশন বা ব্যবসায়ীদের মধ্যে লাভ-লোকসান কিংবা কমিশনের হার নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। কিন্তু এসব বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
এলপিজি ডিলাররা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আগামী বছরের জন্য পর্যাপ্ত পণ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনতে এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও এলপিজির সরবরাহ ব্যাহত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।